সূর্যপত্নী ছায়া

এসো এ পথে, পথ ভুলে
যেখানে আমরা অজানা দুজনে
কারণ আঁখিপাতে এটুকু সীমানার ভুলে
যেখানে ডাকবে নিজেকে নতুন সম্বোধনে 

কয়সপ্তাহ পরেই জাপান যাবে ছেলেটা। যে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ব্যাচেলর করতে যাচ্ছে অথচ সে দিগন্তজোরা সবুজ ধানের ক্ষেত দেখে নাই, কাঁঠালের ফুল আর মুচির তফাৎ কি জানে না এমন কি ছাগল কাঁঠাল গাছের পাতা নাকি আম গাছের পাতা খায় জিজ্ঞেস করতেই দ্বিধায় পরে। তাই বললাম – এই ছাগল ছানা, তোমার  জীবন পুরাই বৃথা। জাপান যাবার আগে একটা গ্রাম দেখা উচিত। যাবে আমাদের গ্রামের বাড়ি?  একবিন্দু চিন্তা না করেই – যাবো, যাবো করে নাচতে শুরু করলো।  

বাড়ি আসার পর আমার এক কাকা জিজ্ঞেস করলেন – ভাতিজা বিদেশে কি নিয়া পড়ালেখা করবা? – কাকা, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ। এটা শুনে কাকা বলেই বসলেন – ইঞ্জিনিয়ারিং? ওরে বাবা, বিরাট ব্যাপার! কথা শুনে আমি কোনরকমে হাসি চেপে রাখলাম কিন্তু ও খিলখিলিয়ে হেসে দিলো … গত কয়দিন বাড়ির সবাই তাকে মাথায় তুলে আদর করছে।

ও খুব সহজে সবার আপন হতে পারে। বন্ধু হতে পারে ও অকপটে, বন্ধুর থেকে বেশী খেয়াল রাখতে পারে কারণে, অকারণে। সারাক্ষণ আমায় নিয়ে খবরদারী আর চিন্তার তার শেষ নাই। ফেসবুকে পরিচয়ের প্রথমেই সে আনুষ্ঠানিক ভদ্রতার দেয়াল ভেঙে বলেছে – শুনো আমি আপনি টাপনি করতে ডাকতে পারব না, সে তুমি আমার থেকে যত বড়ই হয়ে থাকো। তুমিটাই ঠিক আছে তাই না?       

চোখে দেখা জলপদ্মর বাগান
আজ আঁধারে যখন ফুটবে
বর্গার কয়টা আবেগী দিন
তার ফসল কে নিবে?

সারাটা বিকেল গোল্লাছুট খেলে গা-মাথা ধুলোয় মাখা এর উপুর পালোয়ানি দেখিয়ে গরুর দুধ দোয়াতে গিয়েছিলো কিন্তু গোবরে পা পিছলে ধপাং …… । টেনে তুলে যখন কুয়োর পাড়ে গোসল দিতে নিয়ে গেলাম তখন সন্ধা নেমেছে, ধুপের গন্ধ বাড়িতে। চিবুকে খোচালো দাড়ির কালচে রেশ, ভ্রুলেখায় একটা কাটা দাগ আর বুক থেকে নাভি অবধি পেশীর রেখাগুলি অনেকটাই স্পষ্ট আবছা আলোতে।

ভাঁজ করা নিজের হাতের উপরেই ঘুমিয়ে পরেছে উঠোনে পাতা জলচকিতে তার পাশে আলসে লবঙ্গটাও ঘুমিয়েছে; লবঙ্গ আমার পোষা বিড়াল। পূর্ণিমার চাঁদের আলো ধুয়ে গেছে শিশুর ন্যায় আদুরে সারা শরীরে। সেই পূর্ণিমার টানেই আমার হৃদয় ভাসছে কামনার জোয়ারে। নিজেকে বাঁধতে পারছি না আর, খুব ইচ্ছে করছে ছুঁয়ে দেই অনামিকা তার অধরে।

রাতে ঘুমানোর আগে আর কান্নার বাঁধ সয় নি। আমায় জড়িয়ে ডুকরে কেঁদেছে বেচারা, আমিও। যদিও আমার চোখের পানির নাম ওর জানা নেই কিন্তু ওর কষ্টের কারণ আমার জানা। যে প্রেমের আকার নাই তার মাপ কেউ করে অন্তঃকরণে কেউ করে শরীর সম্ভোগে। – জানো? ঐ মেয়েটা আরো একজনকেও ভালোবাসে, ও আমারই ক্লাসের বন্ধু, ওকেও তাই বলেছে যা আমায় বলেছে ওর সাথেও সব করেছে যা আমার সাথে ……        

কান্নায় ফোলা লালচে চোখে তাকিয়ে মনে মনে জিজ্ঞেস করলাম – আমার চেয়ে আর কে তোকে আগলে রাখবে? আর কে তোকে এতোটা ভালোবাসবে নীরবে, নিরস্বার্থে? নাহয় ধর্ম, বয়স, সমাজের এই পার্থক্যই টিকে থাকুক সম্মান নিয়ে।   

যে স্বপ্ন এখন ধ্বংসাবশেষ, তা আর স্বপ্ন না, এটা আধজাগা, আধঘুম মাত্র। যা হারিয়েছে তা কখনই তোমার ছিল না। এটা শুধুই একটা হারানোর যন্ত্রণা, যা বিজয়ের অনুভুতির সমান। বুঝ দিলাম ওকে কিন্তু নিজেকে বোঝাতে পারলাম না।   

আমার এ ভয় আত্ন-প্রার্থনার
সামলে রাখি বোধ বিহ্বলতা
চোখের মনিতে জন্মানো অঙ্কুর
একটু কাঁদাও ভিজে হোক তা রাংচিতা

About Author /

Start typing and press Enter to search